ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে অভিযোগ

বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে বর্ণ্যবৈষম্যের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অব হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট’ (হাড)। দেশটির ‘ফেয়ার হাউজিং’ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সংস্থাটি বলেছে, ফেসবুক বর্ণের ভিত্তিতে বাড়ি কেনা-বেচার বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ দেয়।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে অভিযোগ

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখানেই শেষ নয়। হাড ফেসবুকের বিরুদ্ধে ধর্ম, পারিবারিক অবস্থা, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধীত্ব ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোন গোষ্ঠীকে কোন বিজ্ঞাপন দেখানো হবে বা আদৌ দেখানো হবে কি না তা নির্ধারণের সুযোগ দেয় বিজ্ঞাপনদাতাদের।

ফেসবুকে প্রায় ২৭০ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। এর বার্ষিক আয় পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলকভাবে বিজ্ঞাপন ‘টার্গেটের’ সুযোগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবার প্রথম নয়।

২০১৬ সালে জানা গিয়েছিল, ব্যবহারকারীরা তাদের পেশাগত পরিচয় হিসেবে যা-ই, লেখে না কেন সেই তথ্য ব্যবহার করে তাদেরকে বিজ্ঞাপন দেখানো যায়। এমন কি কোনও ব্যবহারকারী যদি নিজের পেশাগত পরিচয়ের স্থানে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ লেখা থাকে তাহলেও।

ফেসবুকে প্রায় ২৭০ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে: 

যুক্তরাষ্ট্রের হাড আপত্তি জানিয়ে বলেছে, আমেরিকায় জন্ম হয়নি, খ্রিস্টান হওয়া বা না হওয়া, অভিভাবকের পরিচয় ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে হাউজিং সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন টার্গেট করার সুযোগ দিয়ে বিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটিয়েছে ফেসবুক। গবেষকরা রয়টার্সকে বলেছেন, বয়সের ভিত্তিতে ভাগ করে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট কোনও বিজ্ঞাপন দেখতে দেওয়া না দেওয়ার মতো কাজ করা হলে সেটাও ‘ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্টের’ খেলাপ ঘটায়।

হাডের সেক্রেটারি বেন কারসন মন্তব্য করেছেন, ‘ব্যবহারকারীর পরিচয় ও তার বাসস্থানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফেসবুক বৈষম্য করছে। কোনও কম্পিউটারের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির বাড়ি কেনার সংক্রান্ত অপশনগুলো কমিয়ে দেওয়া আর কারও মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া একই কথা।’

হাড ফেসবুকের বিরুদ্ধে বর্ণ্যবৈষম্যের অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছে। তবে কী পরিমাণ অর্থ তারা দাবি করেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ফেসবুক জানিয়েছে, তারা এমন অভিযোগে অত্যন্ত বিস্মিত। বিষয়টি সমাধানে তারা হাডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বর্ণবৈষম্য করে এমন বিজ্ঞাপন তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হবে।

প্রাপক নির্ধারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের বৈষম্য: 

বাড়ি বিক্রয়ের বিষয়ে দেওয়া বিজ্ঞাপনের প্রাপক নির্ধারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের বৈষম্য করা এবং ফেসবুকের তাতে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকা। এতে ফেসবুক যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ফেয়ার অ্যালায়েন্স,’ ‘আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন,’ কমিউনিকেশনস ওয়ার্কার্স অব আমেরিকাসহ’ আরও বহু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বৈষম্যের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।

অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে ফেসবুক জানিয়েছিল, তারা তাদের ‘টার্গেটেড’ বিজ্ঞাপন প্রচারে ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে হাউজিং ও চাকরির বিজ্ঞাপনে তারা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে বিজ্ঞাপন দেখানোর সুবিধা বন্ধ করে দেবে। তাছাড়া, তারা এমন একটি টুল বানাবে যা দিয়ে ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে বিজ্ঞাপনদাতাদের দেওয়া বাড়ি বিক্রি ও চাকরি সংক্রান্ত সব বিজ্ঞাপন দেখতে পারবে।

স্মার্টফোন এবং টিভির সংযোগ ঘটানোর উপায়

স্মার্টফোন এবং টিভির সংযোগ ঘটানোর অনেক উপায় রয়েছে

স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের সঙ্গে টিভির সংযোগ ঘটানোর অনেক উপায় রয়েছে। এর যেকোনও একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই আপনি আপনার টিভির সঙ্গে ফোনকে সংযুক্ত করে বড় পর্দায় পরিবারের সঙ্গে ইউটিউব, নেটফ্লিক্সসহ যেকোনও ভিডিও ক্লিপ উপভোগ করতে পারেন। ফোনের সঙ্গে টিভির সংযোগ স্থাপন করতে নিচের যেকোনও একটি পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

আপনার ফোনে থাকা কোন ভিডিও সবাই মিলে দেখতে চাচ্ছেন? তাহলে ফোনটি আপনার টিভির সঙ্গে সংযুক্ত করে যেকো্নও কন্টেন্ট বড় পর্দায় সবাই একসঙ্গে উপভোগ করুন।

এইচডিএমআই ক্যাবলের সাহায্যে: বর্তমানে স্মার্টফোনকে টিভির সঙ্গে সংযুক্ত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো এইচডিএমআই ক্যাবল। এখন প্রতিটি স্মার্টটিভিতেই কোনও না কোনও ধরনের একটি এইচডিএমআই পোর্ট থাকে যা একই উৎস থেকে অডিও এবং ভিডিও উভয়ই স্থানান্তর করতে ব্যবহার হয়।

তবে আপনার ফোনটিতে এইচডিএমআই পোর্ট নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজারে অনেক অ্যাডাপ্টার রয়েছে যা আপনার ফোন এর ইউএসবি টাইপ-সি, মাইক্রো ইউএসবি, বা অন্য কোন পোর্টে যুক্ত হয়ে এদেরকে এইচডিএমআই পোর্টে রূপান্তর করবে।

কিছু অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবে আবার মিনি এইচডিএমআই বা মাইক্রো এইচডিএমআই পোর্ট থাকে যা সরাসরি একটি তারের মাধ্যমেই এইচডিএমআই পোর্টে সংযুক্ত হতে পারে। ইউএসবি ক্যাবলের সাহায্যে: বর্তমানে বেশিরভাগ স্মার্টফোনের চার্জিংয়ের ক্যাবলের সঙ্গে একটি ইউএসবি পোর্ট থাকে যার মাধ্যমে ফোনটিকে ল্যাপটপ বা পাওয়ার অ্যাডাপ্টারের সঙ্গে সহজেই সংযুক্ত করা যায়। তাই আপনার টিভিতে যদি কোন ইউএসবি পোর্ট থাকে তবে একই প্রক্রিয়ায় শুধু একটি ইউএসবি ক্যাবলের মাধ্যমে ফোনকে টিভির সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। এটি আপনার ফোনে থাকা ফাইলগুলো টিভিতে অনস্ক্রিন করার সবচেয়ে সহজ উপায়।

তারবিহীন কাস্টিংয়ের সাহায্যে: আপনি যদি তার যুক্ত সংযোগের ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চান তবে তারবিহীন কাস্টিংই হতে পারে আপনার সেরা বিকল্প। কাস্টিং হলো একই ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে থাকা ফোন বা ট্যাবলেটের কন্টেন্টগুলো টেলিভিশনে স্ট্রিমিং করার একটি আধুনিক প্রক্রিয়া।

স্মার্টফোন এবং টিভির সংযোগ ঘটানোর অনেক উপায় রয়েছে

এক্ষেত্রে অ্যালকাস্টের মতো স্মার্টফোন অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোন (অ্যান্ড্রয়েড ৪.২ এর পরবর্তী সংস্করণগুলো) এবং উইন্ডোজ ডিভাইসগুলো (উইন্ডোজ ৮.১ পরবর্তী সংস্করণগুলো) মিরাকাস্ট কাস্টিংকে সমর্থন করবে। এছাড়া আপনি চাইলে গুগল ক্রোমকাস্ট বা রকো স্ট্রিমিং স্টিকের মতো স্ট্রিমিং ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন।

এয়ারপ্লে প্রযুক্তির সাহায্যে: এয়ারপ্লে মূলত নিজস্ব একটি প্রযুক্তি। অ্যাপলের ডিভাইসগুলোকে অ্যাপল টিভির সঙ্গে সংযুক্ত করতেই এটি তৈরি করেছে অ্যাপল। এয়ারপ্লেটি শুধু অ্যাপল ডিভাইসগুলোর মধ্যে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তবে আপনি যদি আইফোন বা আইপ্যাড থেকে অ্যাপল টিভিতে কোনও ভিডিও বা অডিও কন্টেন্ট পাঠান তবে আগে থেকেই তা এয়ারপ্লেতে তা সাজানো থাকতে হবে। আর উভয় ডিভাইসই যদি একই ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একে অপরকে শনাক্ত করবে এবং আপনি আপনার ফোনের সেটিংসে এয়ারপ্লে সংযোগটি নির্বাচন করতে পারবেন। একইভাবে আপনি তারবিহীন হেডফোনকে এর সঙ্গে  সংযুক্ত করার জন্য ব্লুটুথ ব্যবহার করতে পারবেন।

ফেসবুক অফিসের সামনে নগ্ন প্রতিবাদ

ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে শৈল্পিক নগ্নতা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় নিউইয়র্কে ফেসবুকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে নগ্ন হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শতাধিক নারী ও পুরুষ। রোববার নিউইয়র্কে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলছে, রোববার সকালের দিকে প্রতিবাদকারীরা ফেসবুকের কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় নগ্ন হয়ে শুয়ে পড়েন। এ সময় তাদের দুই হাতে পুরুষের নিপলের ছবি দেখা যায়। ডান হাত উপরে তুলে একটি নিপল প্রদর্শন করছেন এবং অন্যটি দিয়ে নিজের গোপনাঙ্গ ঢেকে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা।

ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদ কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোকচিত্রের জন্য সুপরিচিত মার্কিন শিল্পী স্পেন্সার টুনিক ও ন্যাশনাল কোয়ালিশন অ্যাগেইন্সট সেন্সরশিপ (এনসিএসি) নামের একটি সংস্থা। হ্যাশট্যাগে #উইদ্যনিপল নামে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে তারা।

পরে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম নারীদের শৈল্পিক নগ্নতা নিয়ে যে সেন্সরশিপ আরোপ করেছে, এটা তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে নারীদের নিপল প্রদর্শনরত শৈল্পিক ছবি দেয়া হলে ব্লক করে দেয় ফেসবুক। কিন্তু পুরুষের এমন ছবির ক্ষেত্রে সেটি করা হয় না।

ফেসবুকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইনস্টাগ্রাম। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ন্যাশনাল কোয়ালিশন অ্যাগেইন্সট সেন্সরশিপের প্রতিষ্ঠাতা ডন রবার্টসন বলেন, নারীদের শৈল্পিক নগ্ন ছবি পোস্ট করার পর তাদের গ্রুপটি সেন্সর করেছে ফেসবুক। মা দিবসে কবিতার সঙ্গে একটি শৈল্পিক পেইন্টিংজুড়ে দেয়ার পর ওই গ্রুপের অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে ডিজঅ্যাবল করা হয়েছে।

১৩ মিনিটেই ফুল চার্জ হবে স্মার্টফোন!

ফাস্ট চার্জিং-এর প্রযুক্তি এখন প্রায় সব ফোনেই। কিন্তু ১৩ মিনিটে ফুল চার্জ? কিভাবে সম্ভব!

সম্প্রতি চীনের সাংহাইয়ের মোবাইল কংগ্রেসে এমনই অভিনব চার্জিংয়ের খবর দিলো ভিভো।

ভিভোর দাবি, এই বিশেষ প্রযুক্তির চার্জিং ব্যবস্থায় মাত্র ১৩ মিনিটেই ফুল চার্জ হবে ব্যাটারি। ৫ মিনিটেই হবে ৫০ ভাগ চার্জ। নতুন এই চার্জিং ব্যবস্থাকে সুপার ফ্ল্যাশচার্জ ১২০ ওয়াট বলে অভিহিত করছে ভিভো।

মোবাইল কংগ্রেসে সবার নজর কাড়ে ভিভো। নতুন এই সুপার ফ্যাশচার্জ প্রযুক্তির প্রকাশের দিকেই ছিল সবার নজর।

ভিভোর দাবি, ৪০০০mAh ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাবে এই প্রযুক্তিতে। তাদের বিশেষজ্ঞ দল ১২০ ওয়াট চার্জার ব্যবহার করেই এই অসাধ্য সাধন করেছে। তবে এই বিশেষ চার্জিং প্রযুক্তি কোন ফোনে ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে এখনই মুখ খুলনি ভিভো।

নাসা স্পেস প্রতিযোগীরা ফ্লোরিডা যাচ্ছেন ১৯ জুলাই

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮ প্রতিযোগীরা ফ্লোরিডা যাচ্ছেন ১৯ জুলাই। ৬টি ক্যাটাগরির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ৬টি দল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার ভ্রমণ এবং ফ্যালকন-নাইন স্পেস শাটলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে।

জুলাইয়ের ১৯ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২০ জুলাই পৌঁছানোর পর ২১-২৩ জুলাই আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নেতৃত্বে নাসার উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের।

২১ জুলাই ফ্যালকন-নাইন স্পেস শাটলের উড্ডয়ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮’এ বিজয়ী দল এবং প্রতিনিধিরা। পরবর্তী দুই দিন (২২-২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেস সেন্টারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ৬টি দল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবে এবং কেনেডি স্পেস সেন্টার ঘুরে দেখবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮’র আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল ‘টিম অলিক’ এবং বাংলাদেশে এ প্রতিযোগিতার প্রতিনিধিদের কেনেডি স্পেস সেন্টার ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

নাসায় বাংলাদেশ দলের অংশ নেয়া প্রসঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের নিয়ে গড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল টিম অলিক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করেছে। বাংলাদেশে বেসিস, বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের মাধ্যমে এ আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নাসায় উড়েছে বাংলাদেশের পতাকা। এ অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার আরেকটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

টিম অলিকের দলনেতা আবু সাবিক মাহদি বলেন, প্রথমবারের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এবং নাসা ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ায় এখন বাংলাদেশের সবার আমাদের প্রতি অনেক প্রত্যাশা। আমরা বাংলাদেশকে আরো উঁচুতে আসীন করতে চাই।

উল্লেখ্য, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮-তে বাংলাদেশ দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খেতাব অর্জন করে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি। প্রথমবারের মতো ১৩৯৫টি দলকে হারিয়ে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮ এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করে নেয় বাংলাদেশ। বেস্ট ইউজ অব ডেটা ক্যাটাগরিতে শীর্ষ চারে স্থান করে নেয়া ক্যালিফোর্নিয়া, কুয়ালালামপুর আর জাপানের দলকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে সিলেট থেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘টিম অলিক’।

ইন্টারনেটে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ চায় রাশিয়া, ইরান ও চীন

ইন্টারনেটের বর্তমান অখণ্ড রূপ আর থাকছে না। সাইবার জগতে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কায় ইন্টারনেটে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে কয়েকটি দেশ। রাশিয়া, চীন ও ইরান নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করতে কাজ করে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত চীন এ পথে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে ‘দ্য গ্রেট ফায়ারওয়াল অব চায়না’ নামে একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে চীন। এটা এক বিশাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থা।

সফটওয়্যারনির্ভর এই সেন্সরশিপ ব্যবস্থা দিয়ে চীন তাদের জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। জনগণ কোন তথ্য, আধেয় বা কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবে, তা এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী অয়ারড বলছে, নিজস্ব ইন্টারনেট তৈরিতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত মাসেই এমন ব্যবস্থা তৈরির জন্য নতুন আইন পাস করিয়েছেন।

ডিএনএস ইন্টারনেটের একটি মৌলিক বিষয়। এটা বলে দেয় কীভাবে ইন্টারনেটের আইপি অ্যাড্রেসকে পাঠযোগ্য করতে হয়। রাশিয়া এই ডিএনএস ব্যবস্থার একটি নিজস্ব রূপ তৈরি করেছে। এতে করে কেউ রাশিয়া থেকে গুগলের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গেলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবেন দেশটির নিজস্ব সার্চইঞ্জিন ইয়ানডেস্কে। একইভাবে ফেসবুকে ঢুকতে গেলে চলে যাবেন রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকেতে। গত এপ্রিলে এই বিষয়ে পরীক্ষা চালিয়ে সফল হয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়ার পথে এগোচ্ছে ইরানও। গত মাসে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, ‘জাতীয় তথ্য নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ করেছে দেশটি। প্রকল্পটি ইরানের ‘নিজস্ব ইন্টারনেট’ ব্যবস্থা গড়ার অংশ।

বৈশ্বিক ইন্টারনেট ও এর প্রযুক্তিগত গঠন প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ এখন পশ্চিমাদের হাতে। এ নিয়ন্ত্রণে অনেক রাষ্ট্রই খুশি নয়। এ ছাড়া মুক্ত ইন্টারনেটে এমন কিছু সমস্যা আছে, যা সব দেশের জন্যই সমান গুরুতর। বর্তমান সাইবার দুনিয়ায় একটি দেশের সামরিক স্থাপনা কিংবা বিদ্যুৎ বা জরুরি পানি ব্যবস্থাপনার মতোই ঝুঁকিপূর্ণ।

অয়ার্ড বলছে, যদি রাশিয়া ও ইরান তাদের চেষ্টায় সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন এক ইন্টারনেট ব্যবস্থা তৈরি হবে যেটার সঙ্গে বর্তমানের কোনো কিছুরই তুলনা চলে না। তবে এই প্রচেষ্টার পেছনে বিশাল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ আছে। সেই সঙ্গে আছে অর্থনৈতিক বিষয়। তবে নিজস্ব ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠার পথ কোনোভাবেই অসম্ভব নয়।

জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল স্বীকার করলেন বিল গেটস

অ্যাপল ছাড়া অন্য সব মোবাইলের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েডের ব্যবহার বাড়তে দেওয়াই ছিল তার জীবনের সবথেকে বড় ভুল। সম্প্রতি এক আলোচনায় এই কথা জানিয়েছেন বিল গেটস।

৬৩ বছরের এই প্রযুক্তিবিদ জানিয়েছেন, মাইক্রোসফট এখনও একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। সঠিক সময়ে অ্যান্ড্রয়েডেকে প্রতিযোগিতায় ফেলতে পারলে আজ মাইক্রোসফট বিশ্বের অন্যতম সেরা টেক কোম্পানি না হয়ে একমাত্র টেক কোম্পানি হতে পারত।

বিল গেটস বলেন, অ্যান্ড্রয়েডে এখন স্মার্টফোনের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। অ্যাপল ফোন ছাড়া সব স্মার্টফোনে অ্যান্ড্রয়েডে থাকে। তাই এখানে মাইক্রোসফট এর জেতা উচিত ছিল।

গেটস আরও বলেন, অ্যাপল এর মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ছাড়া এই মুহূর্তে একটাই প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আর সেই প্ল্যাটফর্মের মূল্য কত? ৪০০ বিলিয়ান মার্কিন ডলার!

সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে বিল গেটস নিজের সফল প্রোডাক্ট উইন্ডোজ ও অফিস নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই দুটি প্রোডাক্ট মাইক্রোসফটকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

অনুষ্ঠানে বিল গেটস বলেন, আমরা যদি সফলভাবে ওটাকে (মাইক্রোসফট) চালাতে পারতাম তাহলে আমরা একমাত্র কোম্পানির স্বীকৃতি পেতাম।

সর্বনিম্ন মূল্যে ইন্টারনেট ১ জুলাই থেকে

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করার লক্ষ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের দাম ৩৬০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাশ্রয়ী ডিজিটাল অবকাঠামো’ শীর্ষক এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বৈঠকে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের দাম কমানোর বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জনবান্ধব সরকার, প্রযুক্তিবান্ধব সরকার। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে সেই লক্ষ্যে এর আগে ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের মূল্য ২৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৮ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের এপ্রিলে ১২ হাজার টাকা, ২০১২ সালের এপ্রিলে ৮ হাজার টাকা, ২০১৪ সালের এপ্রিলে দুই হাজার ৮০০ টাকা এবং ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৯৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৩৬০ টাকায় কমিয়ে আনা হয়।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তি বিকাশে দেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। ২০০৮ সালেও দেশে সাড়ে সাত জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে তা ১১০০ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ইন্টারনেট সংক্রান্ত সেবাসমূহের পুনঃনির্ধারিত মূল্য তালিকা

আইআইজির জন্য আইপি ট্রানজিট
ব্যান্ডউইথ এমবিপিএস ৫০০-৯৯৯ পর্যন্ত এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৫০ টাকা, নূন্যতম ২ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৩৫ টাকা, ব্যান্ডউইথ এমিবিপিএস ৫০০০০+ পর্যন্ত এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩০০ টাকা, নূন্যতম ২ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৮৫ টাকা।

আইএসপিএর জন্য আইপি ট্রানজিট
ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস (৫-১৯) (শুধুমাত্র উপজেলা বা ইউনিয়ন হতে) এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৪০০ টাকা, নূন্যতম ৩ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৭৫ টাকা। ব্যান্ডউইড্থ এমবিপিএস ৪০০০০+ এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩১০ টাকা, ন্যূনতম ৩ বছর মেয়াদী চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৯০ টাকা।

বিটিসিএল লোকাল কনটেন্ট ট্রান্সমিশন চার্জ
সংযোগের স্থান বৃহত্তর ঢাকা এলাকায় ট্রান্সমিশন চার্জ প্রতি এমবিপিএস ৩০ টাকা, সংযোগের স্থান ঢাকা বাইরে ট্রান্সমিশন চার্জ প্রতি এমবিপিএস ( ১০০ টাকা।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জন্য
ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস ৫-৯৯ পর্যন্ত, এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩০০ টাকা, নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৭০ টাকা, ব্যান্ডউইড্থ এমবিপিএস ৩০০০ এবং তদুর্ধ্ব, এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২০০ টাকা, নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ১৮০ টাকা।

সরকারি অফিস, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট অফিসের জন্য
ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস ৫- ৪৯ পর্যন্ত এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৯৫ টাকা, নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৫৫ টাকা, ব্যান্ডউইড্থ এমবিপিএস ৩০০০+ এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৫০ টাকা, নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২২৫ টাকা।

ভিপিএন সেবা
সারা দেশব্যাপী এক রেট ব্যান্ডউইড্থ (এমবিপিএস) ১-৫ পর্যন্ত প্রতি এমবিপিএস ৩০০ টাকা, ব্যান্ডউইড্থ (এমবিপিএস) ১০০০০ বা ততোধিক, প্রতি এমবিপিএস ৩০ টাকা।

এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় গ্রাহকদেরকে ওপরে বর্ণিত চার্জ থেকে শতকরা ১০ ভাগ ডিসকাউন্ট সুবিধা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লিনাক্স ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজেস এবং উইন্ডোজ ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজের ব্যান্ডউইডথের মূল্যহ্রাস করা হয়েছে।

এছাড়া www.btcl.gov.bd ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

মোবাইল ফোনের মেমোরি কখনোই full হবে না!

এই প্রযুক্তিনির্ভর যুগে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন না এমন মানুষ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ফোনের ইন্টার্নাল স্টোরেজ যেন সবসময়ই কম মনে হয়। তবে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করলে সহজেই অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অনেকটা জায়গা বাঁচিয়ে নেয়া যায়। চলুন জেনে নেই সেই উপায়গুলো সম্পর্কে:-

১. পুরোনো ডাউনলোড ডিলিট অনেক সময়ই আমরা বহু ফাইল ডাউনলোডের পর তা ডিলিট করতে ভুলে যায়। এর ফলে ওই ফাইলগুলো জায়গা নিয়ে বসে থাকে। তাই একদিন সময় করে ডাউনলোডস ফোল্ডারে যান। পুরোনো অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো সিলেক্ট করে দিন ডিলিট টিপে। দেখবেন, অনেকটা হালকা হবে ফোনটি!
২. ক্যাশে ও ডেটা ক্লিয়ার ফোনের অ্যাপ ম্যানেজারে যান। সেখানে গিয়ে অ্যাপগুলো সিলেক্ট করুন। তারপর তার ডেটা ও ক্যাশে ডিলিট করুন। এতে পুরোনো অ্যাপ পছন্দ মুছে গেলেও একসঙ্গে অনেক জিবি বেঁচে যায়। তবে মনে রাখবেন, অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাশে বাড়বে এবং আপডেটের সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সাইজ বাড়বে।
৩. লাইট অ্যাপ ব্যবহার করুন ফেসবুক, মেসেঞ্জারের মতো অ্যাপগুলোর কিন্তু লাইট ভার্সন রয়েছে। এর ফলে আপনার স্মার্টফোনের স্টোরেজ বাড়ে এবং ওএস-ও ফাস্ট কাজ করে।
৪. এসডি কার্ডে অ্যাপ ইনস্টল সবসময় স্মার্টফোনের ওএস-এর উপর চাপ কেন দেবেন? কিছু অ্যাপ মাইক্রো এসডি কার্ডে পাঠিয়ে দিন। এতে জায়গাও বাঁচবে এবং স্মার্টফোনটি দ্রুত কাজও করবে।
৫. গুগল ফটোস সাধারণ গ্যালারি স্টোরেজ না বাড়িয়ে গুগল ফটোসে ফটো ব্যাকআপ করাই যেতে পারে। এর মাধ্যমে যখন ইচ্ছা ফটো দেখতেও পারবেন পাশাপাশি এডিটও করতে পারবেন। বাড়তি পাওনা গ্যালারি স্টোরেজ কমবে।
বিঃদ্রঃ অনেকের ধারণা SD কার্ডে অ্যাপ ইন্সটল করলে ফোনের পারফরমেন্স কমে যায় কিন্তু এটা মোটেই ঠিক না। আপনার ফোনে একাধিক অ্যাপ ইন্সটল থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই ফোনের পারফরমেন্স কমে যেতে পারে।যা আপনার ফোনের উপর অনেকটাই নির্ভর করে। আসলে পোস্টটি নতুনদের জন্য করা।যারা বিষয়গুলা জানেনা।।

জেনে রাখুন যেভাবে স্মার্টফোন / মোবাইল বিস্ফোরণ থেকে রক্ষা পেতে পারবেন !

ঘটছে ফোন বিস্ফোরণ: ঠেকাবেন কীভাবে? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক- স্মার্টফোন বিস্ফোরণ এক আতঙ্কের নাম। সম্প্রতি শাওমি ফোন, স্যামসাং ফোনের বিষ্ফোরণে সবাই বেশি আতঙ্কিত হচ্ছেন। কিন্তু একটু সচেতন হলেই ফোন বিষ্ফোরণের হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।

১) স্মার্টফোনে বিস্ফোরণের অন্যতম মূল কারণ ওভার- চার্জিং। বেশিরভাগ ইউজারই রাতে ঘুমনোর সময় সারা রাত ধরে ফোনে চার্জ গিয়ে থাকেন। আর, বেশী সময় ধরে চার্জ দেওয়ার ফলেই ওভার-হিটিংয়ের সমস্যা দেখা যায়৷। তাই, ফোন ফুল-চার্জ হয়ে গেলেই ফোনটিকে আন-প্লাগ করুন।

২) ফোন চার্জ করার সময় কখনই সেটের উপর কোন জিনিস রাখবেন না। এতে ওভার-হিটিংয়ের সমস্যা বেশি দেখা যায়। ফলে, খুব তাড়াতাড়ি আগুন ধরে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এছাড়া, ফোন চার্জিংয়ের সময় কখনই মুভি দেখবেন না অথবা গেম খেলবেন না। এতেও ওভার-হিটিংয়ের সমস্যা দেখা যেতে পারে।

৩) ফোন চার্জের সময় ইয়ারফোন ব্যবহার বা ফোনে কথা বলার সময় চার্জ দেবেন না। দীর্ঘসময়ের জন্য ফোন চার্জ দেওয়ার সময় কোন গরম জায়গা বা সরাসরি রোদের মধ্যে রেখে চার্জ দেবেন না। যেটি বাড়িয়ে দিতে পারে হিটিং ইস্যুকে। সব সময় সম্ভব না হলেও চার্জ দেওয়ার সময় ফোনটির কেসটিকে রিমুভ করে নিন।

৪) স্মার্টফোন চার্জের সময় ব্যবহার করুন স্মার্টফোনটির নিজস্ব ব্রাণ্ডের চার্জার। ভুয়ো বা অন্য ব্রাণ্ডের চার্জার ব্যবহার ফোনে বিস্ফোরণ ঘটানোর কারণ হতে পারে। চার্জারের মতই অনেক স্মার্টফোনের ব্যাটারিও বদলের প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট স্মার্টফোন সংস্থাটিরই ব্যাটারি ব্যবহার করুন। অনেক সময়ই অন্য সংস্থার ব্যাটারি ব্যবহার হয়ে থাকে। যা দুর্ঘটনার সম্ভবনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।