ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে অভিযোগ

বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে বর্ণ্যবৈষম্যের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অব হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট’ (হাড)। দেশটির ‘ফেয়ার হাউজিং’ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সংস্থাটি বলেছে, ফেসবুক বর্ণের ভিত্তিতে বাড়ি কেনা-বেচার বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ দেয়।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে অভিযোগ

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখানেই শেষ নয়। হাড ফেসবুকের বিরুদ্ধে ধর্ম, পারিবারিক অবস্থা, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধীত্ব ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোন গোষ্ঠীকে কোন বিজ্ঞাপন দেখানো হবে বা আদৌ দেখানো হবে কি না তা নির্ধারণের সুযোগ দেয় বিজ্ঞাপনদাতাদের।

ফেসবুকে প্রায় ২৭০ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। এর বার্ষিক আয় পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলকভাবে বিজ্ঞাপন ‘টার্গেটের’ সুযোগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবার প্রথম নয়।

২০১৬ সালে জানা গিয়েছিল, ব্যবহারকারীরা তাদের পেশাগত পরিচয় হিসেবে যা-ই, লেখে না কেন সেই তথ্য ব্যবহার করে তাদেরকে বিজ্ঞাপন দেখানো যায়। এমন কি কোনও ব্যবহারকারী যদি নিজের পেশাগত পরিচয়ের স্থানে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ লেখা থাকে তাহলেও।

ফেসবুকে প্রায় ২৭০ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে: 

যুক্তরাষ্ট্রের হাড আপত্তি জানিয়ে বলেছে, আমেরিকায় জন্ম হয়নি, খ্রিস্টান হওয়া বা না হওয়া, অভিভাবকের পরিচয় ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে হাউজিং সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন টার্গেট করার সুযোগ দিয়ে বিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটিয়েছে ফেসবুক। গবেষকরা রয়টার্সকে বলেছেন, বয়সের ভিত্তিতে ভাগ করে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট কোনও বিজ্ঞাপন দেখতে দেওয়া না দেওয়ার মতো কাজ করা হলে সেটাও ‘ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্টের’ খেলাপ ঘটায়।

হাডের সেক্রেটারি বেন কারসন মন্তব্য করেছেন, ‘ব্যবহারকারীর পরিচয় ও তার বাসস্থানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফেসবুক বৈষম্য করছে। কোনও কম্পিউটারের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির বাড়ি কেনার সংক্রান্ত অপশনগুলো কমিয়ে দেওয়া আর কারও মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া একই কথা।’

হাড ফেসবুকের বিরুদ্ধে বর্ণ্যবৈষম্যের অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছে। তবে কী পরিমাণ অর্থ তারা দাবি করেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ফেসবুক জানিয়েছে, তারা এমন অভিযোগে অত্যন্ত বিস্মিত। বিষয়টি সমাধানে তারা হাডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বর্ণবৈষম্য করে এমন বিজ্ঞাপন তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হবে।

প্রাপক নির্ধারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের বৈষম্য: 

বাড়ি বিক্রয়ের বিষয়ে দেওয়া বিজ্ঞাপনের প্রাপক নির্ধারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের বৈষম্য করা এবং ফেসবুকের তাতে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকা। এতে ফেসবুক যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ফেয়ার অ্যালায়েন্স,’ ‘আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন,’ কমিউনিকেশনস ওয়ার্কার্স অব আমেরিকাসহ’ আরও বহু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বৈষম্যের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।

অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে ফেসবুক জানিয়েছিল, তারা তাদের ‘টার্গেটেড’ বিজ্ঞাপন প্রচারে ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে হাউজিং ও চাকরির বিজ্ঞাপনে তারা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে বিজ্ঞাপন দেখানোর সুবিধা বন্ধ করে দেবে। তাছাড়া, তারা এমন একটি টুল বানাবে যা দিয়ে ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে বিজ্ঞাপনদাতাদের দেওয়া বাড়ি বিক্রি ও চাকরি সংক্রান্ত সব বিজ্ঞাপন দেখতে পারবে।

স্মার্টফোন এবং টিভির সংযোগ ঘটানোর উপায়

স্মার্টফোন এবং টিভির সংযোগ ঘটানোর অনেক উপায় রয়েছে

স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের সঙ্গে টিভির সংযোগ ঘটানোর অনেক উপায় রয়েছে। এর যেকোনও একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই আপনি আপনার টিভির সঙ্গে ফোনকে সংযুক্ত করে বড় পর্দায় পরিবারের সঙ্গে ইউটিউব, নেটফ্লিক্সসহ যেকোনও ভিডিও ক্লিপ উপভোগ করতে পারেন। ফোনের সঙ্গে টিভির সংযোগ স্থাপন করতে নিচের যেকোনও একটি পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

আপনার ফোনে থাকা কোন ভিডিও সবাই মিলে দেখতে চাচ্ছেন? তাহলে ফোনটি আপনার টিভির সঙ্গে সংযুক্ত করে যেকো্নও কন্টেন্ট বড় পর্দায় সবাই একসঙ্গে উপভোগ করুন।

এইচডিএমআই ক্যাবলের সাহায্যে: বর্তমানে স্মার্টফোনকে টিভির সঙ্গে সংযুক্ত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো এইচডিএমআই ক্যাবল। এখন প্রতিটি স্মার্টটিভিতেই কোনও না কোনও ধরনের একটি এইচডিএমআই পোর্ট থাকে যা একই উৎস থেকে অডিও এবং ভিডিও উভয়ই স্থানান্তর করতে ব্যবহার হয়।

তবে আপনার ফোনটিতে এইচডিএমআই পোর্ট নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজারে অনেক অ্যাডাপ্টার রয়েছে যা আপনার ফোন এর ইউএসবি টাইপ-সি, মাইক্রো ইউএসবি, বা অন্য কোন পোর্টে যুক্ত হয়ে এদেরকে এইচডিএমআই পোর্টে রূপান্তর করবে।

কিছু অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবে আবার মিনি এইচডিএমআই বা মাইক্রো এইচডিএমআই পোর্ট থাকে যা সরাসরি একটি তারের মাধ্যমেই এইচডিএমআই পোর্টে সংযুক্ত হতে পারে। ইউএসবি ক্যাবলের সাহায্যে: বর্তমানে বেশিরভাগ স্মার্টফোনের চার্জিংয়ের ক্যাবলের সঙ্গে একটি ইউএসবি পোর্ট থাকে যার মাধ্যমে ফোনটিকে ল্যাপটপ বা পাওয়ার অ্যাডাপ্টারের সঙ্গে সহজেই সংযুক্ত করা যায়। তাই আপনার টিভিতে যদি কোন ইউএসবি পোর্ট থাকে তবে একই প্রক্রিয়ায় শুধু একটি ইউএসবি ক্যাবলের মাধ্যমে ফোনকে টিভির সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। এটি আপনার ফোনে থাকা ফাইলগুলো টিভিতে অনস্ক্রিন করার সবচেয়ে সহজ উপায়।

তারবিহীন কাস্টিংয়ের সাহায্যে: আপনি যদি তার যুক্ত সংযোগের ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চান তবে তারবিহীন কাস্টিংই হতে পারে আপনার সেরা বিকল্প। কাস্টিং হলো একই ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে থাকা ফোন বা ট্যাবলেটের কন্টেন্টগুলো টেলিভিশনে স্ট্রিমিং করার একটি আধুনিক প্রক্রিয়া।

স্মার্টফোন এবং টিভির সংযোগ ঘটানোর অনেক উপায় রয়েছে

এক্ষেত্রে অ্যালকাস্টের মতো স্মার্টফোন অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোন (অ্যান্ড্রয়েড ৪.২ এর পরবর্তী সংস্করণগুলো) এবং উইন্ডোজ ডিভাইসগুলো (উইন্ডোজ ৮.১ পরবর্তী সংস্করণগুলো) মিরাকাস্ট কাস্টিংকে সমর্থন করবে। এছাড়া আপনি চাইলে গুগল ক্রোমকাস্ট বা রকো স্ট্রিমিং স্টিকের মতো স্ট্রিমিং ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন।

এয়ারপ্লে প্রযুক্তির সাহায্যে: এয়ারপ্লে মূলত নিজস্ব একটি প্রযুক্তি। অ্যাপলের ডিভাইসগুলোকে অ্যাপল টিভির সঙ্গে সংযুক্ত করতেই এটি তৈরি করেছে অ্যাপল। এয়ারপ্লেটি শুধু অ্যাপল ডিভাইসগুলোর মধ্যে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তবে আপনি যদি আইফোন বা আইপ্যাড থেকে অ্যাপল টিভিতে কোনও ভিডিও বা অডিও কন্টেন্ট পাঠান তবে আগে থেকেই তা এয়ারপ্লেতে তা সাজানো থাকতে হবে। আর উভয় ডিভাইসই যদি একই ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একে অপরকে শনাক্ত করবে এবং আপনি আপনার ফোনের সেটিংসে এয়ারপ্লে সংযোগটি নির্বাচন করতে পারবেন। একইভাবে আপনি তারবিহীন হেডফোনকে এর সঙ্গে  সংযুক্ত করার জন্য ব্লুটুথ ব্যবহার করতে পারবেন।

ফেসবুক অফিসের সামনে নগ্ন প্রতিবাদ

ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে শৈল্পিক নগ্নতা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় নিউইয়র্কে ফেসবুকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে নগ্ন হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শতাধিক নারী ও পুরুষ। রোববার নিউইয়র্কে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলছে, রোববার সকালের দিকে প্রতিবাদকারীরা ফেসবুকের কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় নগ্ন হয়ে শুয়ে পড়েন। এ সময় তাদের দুই হাতে পুরুষের নিপলের ছবি দেখা যায়। ডান হাত উপরে তুলে একটি নিপল প্রদর্শন করছেন এবং অন্যটি দিয়ে নিজের গোপনাঙ্গ ঢেকে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা।

ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদ কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোকচিত্রের জন্য সুপরিচিত মার্কিন শিল্পী স্পেন্সার টুনিক ও ন্যাশনাল কোয়ালিশন অ্যাগেইন্সট সেন্সরশিপ (এনসিএসি) নামের একটি সংস্থা। হ্যাশট্যাগে #উইদ্যনিপল নামে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে তারা।

পরে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম নারীদের শৈল্পিক নগ্নতা নিয়ে যে সেন্সরশিপ আরোপ করেছে, এটা তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে নারীদের নিপল প্রদর্শনরত শৈল্পিক ছবি দেয়া হলে ব্লক করে দেয় ফেসবুক। কিন্তু পুরুষের এমন ছবির ক্ষেত্রে সেটি করা হয় না।

ফেসবুকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইনস্টাগ্রাম। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ন্যাশনাল কোয়ালিশন অ্যাগেইন্সট সেন্সরশিপের প্রতিষ্ঠাতা ডন রবার্টসন বলেন, নারীদের শৈল্পিক নগ্ন ছবি পোস্ট করার পর তাদের গ্রুপটি সেন্সর করেছে ফেসবুক। মা দিবসে কবিতার সঙ্গে একটি শৈল্পিক পেইন্টিংজুড়ে দেয়ার পর ওই গ্রুপের অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে ডিজঅ্যাবল করা হয়েছে।